betarbanglabd@gmail.com +৮৮০২-৪৪৮১৩০৫৩
Logo

বেতার প্রকাশনা

শব্দের সীমা পেরিয়ে—ত্রিমাত্রিক বাংলাদেশ বেতার

প্রবন্ধ-নিবন্ধ

বাংলার বর্ষা

প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন 7/22/2026 15 বার দেখা হয়েছে 9 min read 1 মন্তব্য 2 প্রতিক্রিয়া
বাংলার বর্ষা
নিবন্ধটি শুনুন / অডিও শুনুন (TTS)
1.0x

বাংলার বর্ষা


“ওই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে

জলসিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভরভসে

ঘনগৌরবে নবযৌবনা বরষা

শ্যামগম্ভীর সরসা।”

-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


বাংলার বর্ষা নিয়ে লিখতে গেলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাদ দিয়ে তা কল্পনাও করা যায়না। তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ‘বর্ষামঙ্গল কবিতা’ নামক গানটির প্রথম কলি দিয়েই তাই আমিও আমার আজকের লেখা শুরু করেছি। আসলে বাংলা ভাষার প্রায় সকল কবি ও সাহিত্যিকগণ বর্ষাকে নিয়ে প্রচুর লিখেছেন। সেসব লেখার উদ্বৃতি দিতে গেলে নিজের আর কিছুই লেখা হবে না। অতএব, কবি-সাহিত্যিকদের কথা নয়, বরং নিজের কথাই বলি।


বাংলার ঋতুচক্রে বর্ষা মহান সৃষ্টিকর্তার এক অনবদ্য সৃষ্টি। বর্ষার রিমঝিম শব্দ যেমন এদেশের অনেক মানুষকে কবি হতে রসদ জুগিয়েছে, তেমনি বর্ষার ঢেউ আর মাঝির জীবন বাজি রেখে নৌকা চালানো সৃষ্টি করেছে অনেক সাহিত্যিককে। শুধু তাই নয়, বর্ষার প্রবল জলোচ্ছাসে বাড়িঘর হারিয়ে একদিকে সর্বস্বান্ত হয়েছে কৃষক, অপরদিকে হাট-ঘাট-মাঠ ডুবে পলিতে ভরে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে সেই কৃষককেই।


তাই বর্ষা শুধু একটি ঋতু নয়, এ যেন আবহমান বাংলার মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি।


ঋতুচক্র অনুযায়ী আষাঢ়-শ্রাবণ মাস বাংলাদেশে বর্ষাকাল। তবে আবহাওয়াবিদগণ বাংলাদেশকে মূলতঃ তিনটি দৃশ্যমান ঋতুতে ভাগ করে আবহাওয়ার বিবরণ দেন এবং সেই হিসেবে জুন হতে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এখানে বর্ষাকাল স্থায়ী হয়। অর্থাৎ গ্রীষ্ম ও শীতকালের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বলা হয়। উল্লেখ্য যে, জুন মাসে মৌসুমি বায়ু আগমনের সাথে সাথে বাংলাদেশে বর্ষাকাল শুরু হয়।


বাংলাদেশে ঋতুচক্র শুরু হয় গ্রীষ্মকাল দিয়ে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মের প্রথম মাস বৈশাখ, এটি কালবৈশাখীর মাসও। প্রচন্ড ঝড় সব লন্ডভন্ড করে দেয়। আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইতে থাকে। বজ্রের গর্জনে হতবিহ্বল সবাই। সরাৎ সরাৎ শব্দে গাছের ডাল ভেঙে যায়। কোন কোন বাড়ির টিনের চাল ওড়ে যায়। কালবৈশাখীর তান্ডবে ছিন্নবিন্ন হয়ে যায় পুরো গ্রাম।


বৈশাখের পর আসে জ্যৈষ্ঠ। এসময কখনো কালবৈশাখীর তান্ডব দেখা যায়, কখনো দেখা যায় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। তাই জ্যৈষ্ঠ হলো বর্ষার আগমনী বার্তাবাহক। ঋতুচক্রে আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও প্রকৃতপক্ষে এর ব্যপ্তি আরো বেশি। শরৎকাল পুরোটাই অর্থাৎ ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও এখানে বর্ষা বিরাজ করে। আশ্বিনের শেষ থেকে হেমন্তের পদচারণা শুরু হয়।


বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। এ বায়ু ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। অন্যদিকে এসময় বাংলাদেশের সর্বত্র পানি থাকে এবং তা বাষ্পে পরিণত হয়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ুর সাথে মিলিত হয়। জলীয়বাষ্পপূর্ণ এ বায়ু প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশে পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত ঘটায়। সেজন্য বর্ষাকালে বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের পাঁচ ভাগের চার ভাগই বর্ষাকালে হয়ে থাকে। মাঝেমাঝে মনে হয়, আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামছে। আর এ বৃষ্টিই বাংলার বর্ষাকে মহিমান্বিত করেছে।


গ্রীষ্মের প্রচন্ড খরতাপের পর বর্ষা মানুষের জীবনে যেন স্বস্তি নিয়ে হাজির হয়। প্রচন্ড উত্তপে মানুষ ও পশুপাখি যখন ছটফট করতে থাকে, দুঃসহ তাপে গাছ ও লতাপাতা যখন ঝিমিয়ে পড়ে, তখনই বৃষ্টিধারা নেমে এসে প্রকৃতিকে সজীবতা দান করে। মানুষ ও পশুপাখি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তৃষিত পৃথিবী বর্ষার পানি পেয়ে তৃষ্ণা থেকে মুক্তি লাভ করে শীতল হয়।


সুফিয়া কামাল বর্ষার আগমনী চিত্র এঁকেছেন অসাধরণ মমতায়। তিনি দীপ্ত কন্ঠে বলেছেন,

আমি বর্ষা, আসিলাম গ্রীষ্মের প্রদাহ শেষ করি,

মায়ার কাজল চোখে, মমতার বর্মপুট ভরি।


বাংলাদেশে বর্ষা শুধু একটি ঋতু নয়, বরং একটি জীবন ব্যবস্থা, একটি সংস্কৃতি। গ্রীষ্ম ও শীতের জীবনাচার পুরো পাল্টে যায় বর্ষাকালে। হাট-ঘাট-মাঠ ডুবে যায়। দেশের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। হাওরাঞ্চলসহ অনেক জায়গাতেই তখন মানুষের পেশারও পরিবর্তন হয়। কৃষি কাজের সুযোগ না থাকায় মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে অধিকাংশ মানুষ। এরা অস্থায়ী মৎস্যজীবী।


হেমন্তের ধু ধু মাঠে বর্ষায় শুধু পানি আর পানি। খনার বচনে এ চিত্র ফুটে ওঠেছে আরো স্পষ্টভাবে। বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও।


কখনো কখনো বর্ষা আবির্ভূত হয় ভয়ংকর রূপে। টানা বর্ষনে নদী ও হাওর পানিতে ভরে যায়। উজানের পানি এসে তাতে যুক্ত হয়, সৃষ্টি হয় বন্যার। নদীর দুকূল উপচিয়ে পানিতে হাট-ঘাট-মাঠ ডুবে যায়। গ্রাম-শহর-বন্দর তলিয়ে যায়। ঘরবাড়িও তলিয়ে যায়, ফলে মানুঘ হয় গৃহহারা। জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সুখের স্বপ্ন ভেসে যায় বন্যার পানিতে।


বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা অন্যতম। প্রায় প্রতি বছরই দেশের কোন না কোন অঞ্চলে বন্যা হয়ে থাকে। এসব বন্যা অল্পদিন স্থায়ী হলেও, কখনো কখনো তা দীর্ঘমেয়াদী হয়। বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এর প্রধান কারণ। এছাড়া পাহাড়ি ঢল, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মান এবং সড়কে পর্যাপ্ত কালভার্ট বা ব্রিজ না থাকাও বন্যা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।


এ বন্যাই আবার পলিমাটি দিয়ে ফসলি জমিকে উর্বর করে তুলে। উর্বর জমিতে কৃষক সোনালী ফসল ফলায়। প্রকৃতি সত্যিই বৈচিত্রময়! যে বন্যা সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়, সে বন্যাই এদেশের ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।


শুধু তাই নয়, আমরা হলাম ভাতে মাছে বাঙালি। আর এ প্রবচনকে স্বার্থক করতে বর্ষার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, বর্ষার প্লাবনের ফলে বাংলাদেশের কৃষি জমিগুলো উর্বর হয়ে ধান উৎপাদনে সহায়ক হয়। তেমনি, বর্ষাকালে খাল-বিল ডুবে যাওয়ায়, নদী-নালাতে প্রচুর পানি থাকায় মাছের পরিমান বৃদ্ধি পায়। ফলে বর্ষাকালে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য বর্ষার নতুন পানি খুবই উপযোগী। এসময় মাছের বৃদ্ধিও বেশি হয়। জেলেদের কাছে রোদ বা বৃষ্টি বাধা হতে পারে না, তারা ছোট ছোট নৌকায় হাওরে বা নদীতে মাছ ধরে আর মনের সুখে গান গায়।


বর্ষা আমাদের ফলের ঋতুও। যদিও জ্যৈষ্ঠকে বলা হয় মধুমাস, তবে একথা সত্যি যে, মধুমাসে পাকতে শুরু হওয়া ফলগুলো আষাঢ়-শ্রাবনেও আমাদের সুমধুর ফলের স্বাদ দিয়ে যায়। এসব ফলের মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, তাল প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তন্মধ্যে কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল।


লিচু সবচেয়ে রসালো ফল, তবে একদম ক্ষণস্থায়ী। জ্যৈষ্ঠতে শুরু হয়ে জ্যৈষ্ঠতেই শেষ। জামও সুমধুর ও সুপ্রিয় ফল। জ্যৈষ্ঠতে শুরু হয়ে আষাঢ় অবধি দেখতে পাওয়া যায়। তালের কাঁচা শাস যেমন মজার, তেমনি পাকা তালের রসের পিঠা আরো বেশি মজার। তবে আম ও কাঁঠাল জ্যৈষ্ঠতে শুরু হলেও শ্রাবণ পর্যন্ত প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাপাই নবাবগঞ্জ জেলা আমের জন্য বিখ্যাত, কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত নরসিংদী ও গাজীপুর জেলা।


গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূরা, সোনালু ফুটলেও দেখা যায় বর্ষা অবধি। তবে বর্ষার ফুল বলতে কদমকেই বুঝায়। অসাধারণ সৌন্দর্যের ফুল কদম। বাংলা সাহিত্যে এ ফুলের বিবরণ গদ্যে ও পদ্যে সমহারে দেখা যায়।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরে মন করে হায় ব্যাকুল!

অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মনহরিলী কদম ফুল।

নিদারুণ তার রূপের বাহার, সাদা পাড়েড় হলুদ শাড়ি;

সেজেগুজে হাতছানি দেয়, কদম ডালে তার বাড়ি।


বর্ষাকালে এদেশের মানুষ কিছুটা অবসর সময় কাটায়। তাই গ্রামাঞ্চলে বিবাহানুষ্ঠান, পালাগান, কুস্তি ও হাডুডু খেলাসহ নানা অনুষ্ঠানের সময়কাল এই বর্ষা। এমনকি গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থের বাড়িতে প্রায়ই আড্ডা জমে। গ্রামের মুরুব্বীরা কোন এক বাড়ির বাংলা-ঘরে বসে হুকোয় টান দিতে দিতে জীবনের গল্প বলে, অন্যের নিন্দা করে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আটে। তরুণেরা তাসের আড্ডায় মেতে ওঠে। কোন বনেদি বাড়ির বাংলা ঘরে চলে কেরাম খেলার ধুম।


কখনো টানা কয়েকদিন বৃষ্টি চলতে থাকে। চাল ভাজা, সিদ্ধ মিষ্টি আলু, বাদাম ভাজা খেতে খেতে গ্রামের যুবক-বৃদ্ধ সবাই গান ধরে। সেই গানের সুরে নব-বধুর বুক আনন্দে ভরে উঠে। জীবন হয়ে উঠে মধুর, সুখের। অপেক্ষা করে কখন রাত হবে, প্রিয়তমের সাথে মিলিত হবে।


সেতো গেল বর্ষার গ্রামের কথা, কিন্তু শহরের অবস্থা কেমন? শহরে মাঠ-ঘাট তেমন একটা না থাকলেও রাস্তায় পানি জমে যায়। আর যেখানে পানি জমে না, সেই রাস্তা হয়ে উঠে কর্দমাক্ত। অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে যেতে জামা-কাপড় কাদায় মাখা-মাখি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বড় বড় ঠিকাদারেরা রাস্তার সব কাজ শুরু করেন বর্ষাকালে। ভালো ভালো রাস্তাগুলো খুঁড়ে, পানি-কাদায় একাকার করে যানবাহন চলাচলে জট লাগিয়ে দেন। অফিসের বস বা দোকানের মালিককে দেরীতে আসার কারণ বাখ্যা করা অধস্তনের পক্ষে খুব সহজ হয়ে যায়। শুধু বিরস বদনে বলতে হয়, জ্যামে আটকা পড়েছিলাম. স্যার।


তবে আধুনিক শহুরে মানুষও এখন বর্ষাকে উপেক্ষা করে না, বরং উপভোগ করে। তাই সবারই প্রত্যাশা থাকে বিকেলের মধ্যেই, বৃষ্টি শুরুর আগেই বাড়ি ফেরার। আজকাল শহরের মানুষ ঘরের বারান্দায় বসে বৃষ্টি উপভোগ করতে করতে সুন্দর কোন মিউজিক চালিয়ে দেয়। বৃষ্টি আর মিউজিক মিলে নতুন এক অপূর্ব সঙ্গীতের রচনা করে, হৃদয়কে দোলা দেয়। অন্যদিকে অফিস বা ব্যবসার ছুটির দিনে ভুনা খিচরি হয়ে উঠে শহরবাসির অতি প্রিয় খাবার। মাঝেমধ্যে মাংস দিয়ে চিতল পিঠা কিংবা চ্যাপা শুটকির ভর্তা দিয়ে চাপটি পিঠা খেতে বড়ই ভালো লাগে, নিজেকে বাঙালি মনে হয়।


তাই বলা যায়, গ্রাম ও শহর সবখানেই এখন বর্ষার আবেদন বহুমুখী। মূলতঃ বর্ষা এখন রূপময়, কাব্যময়, বিষাদময়, ভালোবাসাময় ও প্রেমময় এক ঋতুর নাম। শুরুটা যেমন ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দিয়ে, তাই শেষটাও করতে চাই তাঁর কথা ধার করেই। বাংলার বর্ষা নিয়ে কবিগুরু বলেছেন,

“এমন দিনে তারে বলা যায়,

এমন ঘনঘোর বরষায়!

এমন মেঘস্বরে বাদল ঝরঝরে

তপনহীন ঘন তমসায়।”


লেখক- প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

আপনার অনুভূতি জানান
মোট প্রতিক্রিয়া: 2
নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আলোচনা ও মন্তব্য (1)

jamaljolly 7/23/2026

well done

মন্তব্য করুন