তিনি আমাদের লোক
বিস্ময়কর এক প্রতিভার নাম রবীন্দ্রনাথ। পেয়েছেন দীর্ঘ জীবন-পরিধি। বিপুল বিচিত্র সৃষ্টিকর্ম দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ করেছেন তাঁর সৃজনমুখর জীবনপাত্র। জীবনের ধন তিনি কিছুই দেননি ফেলে। মানুষের একটি মাত্র যাপনযোগ্য পার্থিব জীবন; সে জীবনের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, দুঃখ-তাপ সবই তাঁর কাছে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। মানবিক এই জীবনকেই তিনি শৈল্পিক সুষমায় মেলে ধরেছেন সাহিত্য-সংগীত-নাট্যকলা-চিত্রকলায়। তবু সব পরিচয় ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে তাঁর কবি-পরিচয়। জীবনবাদী কবি তিনি, দুনিয়াজোড়া মানুষের কবি, মানবতার কবি।
রবীন্দ্রনাথকে রোমান্টিক কবি বলা হয় বটে, তবে তাঁর রোমান্টিকতার রূপ-রস-গন্ধ খানিকটা ভিন্ন প্রকৃতির। তাঁর রোমান্টিকতা কেবল আকাশবিহারী কল্পনামাত্র নয়, ‘ভূতলের স্বর্গখ-গুলি’ও তাঁকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। অপার্থিব প্রেম ও সৌন্দর্যধ্যান কবিকে নিয়ে গেছে উচ্চ স্তরের কল্পলোকে, আবার মাতৃভূমির সুখ-দুঃখকাতর মানুষের প্রতিও তিনি নিবিড় আত্মীয়তার টান অনুভব করেছেন কবিজীবনের গোড়া থেকেই, ‘এবার ফিরাও মোরে’ বলে আকুলতাও ব্যক্ত করেছেন দ্বিধাহীন চিত্তে। সমগ্র রবীন্দ্রকাব্যে সাধারণ মানুষের জন্যে গভীর মমতামাখা এবং সম্মানজনক স্থান নির্দিষ্ট হয়ে আছে উজ্জ্বল বর্ণে, একথা অস্বীকারের উপায় নেই। মৃত্যুকে ভ্রƒকুটি হেনে ‘মানবের মাঝে’ বেঁচে থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, সে ‘মানব’ সাধারণ মানুষই বটে। সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন যে জীবন সে জীবনে কবির স্বস্তি নেই, আনন্দ নেই। পিতৃনির্দেশে জমিদারি তদারকি করতে এসে নদীবিধৌত পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) মানুষের অতি সাধারণ নিস্তরঙ্গ জীবনের নৈমিত্তিক ছবি তাঁর কবিমানসে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে এবং জীবনের অন্তিমবেলা পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের অনাড়ম্বর জীবনের সেই ছবি মোটেই বিস্মৃত হননি, দৃশ্যাতীত সেই ছবির মানুষের কথাও কখনো ভুলে যাননি। ‘আমি তোমাদেরই লোক’ বলে কবি নিজের নামটিকে সাধারণ মানুষের পঙ্ক্তিভুক্ত করার বাসনা প্রকাশ করেছেন অকপটে। তাই তিনি এই সাধারণ মানুষের মূল্যায়ন করতে গিয়ে লেখেন :
‘চাষি খেতে চালাইছে হাল,
তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল
বহুদূরপ্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার,
তারি ’পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।’
(জন্মদিনে : ১০ সংখ্যক কবিতা)
এই উপলব্ধি থেকেই কবি শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েছেন এবং নিবিড় আত্মীয়তা বোধ করেছেন। তাদের বেদনায় ও অপমানে তিনি একাত্ম হয়ে বলেছেন :
‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান;
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।’
মানুষের এই অপমান কবির বুকে প্রচ- বেজেছে। তাই স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন :
‘... এই-সব মূঢ় ম্লান মূক মুখে
দিতে হবে ভাষাÑ এই-সব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে
ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশাÑ ডাকিয়া বলিতে হবেÑ
‘মুহূর্তে তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে, ...’
(এবার ফিরাও মোরে : চিত্রা)
দীর্ঘ কাব্য-পরিক্রমার বিভিন্ন পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ গভীর আন্তরিকতায় সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এবং ভাগ্যবিড়ম্বনার কথা লিখেই দায়িত্ব শেষ করেননি, বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি টের পেয়েছেন ‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস’, তাই তথাকথিত ‘শান্তির ললিত বাণী’ শোনাবার পরিবর্তে অনাগত কালের মৃত্তিকালগ্ন কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন :
‘কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন,
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,
যে আছে মাটির কাছাকাছি
সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি।’
(জন্মদিনে : ঐক্যতান)
স্বদেশপ্রেম রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যুক্ত করেছে। নিজের দেশকে মাতৃভাবে গ্রহণ করা এবং ভক্তিভরে স্মরণ করার শিক্ষা তিনি শৈশবেই পারিবারিকভাবে লাভ করেন। প্রকৃতিপ্রেমিক কবি বাংলা মায়ের বৈচিত্র্যময় রূপ ঐশ্বর্যে মুগ্ধ হয়েছেন, আকণ্ঠ পান করেছেন তার রূপসুধা; বারবার তাঁর কবিতা ও গানে গানে সেই রূপের বর্ণনা দিয়েছেন বিচিত্র রঙে ও রেখায়। রানির মতো ধনরতœ বাংলা মায়ের আছে কিনা সে হিসাব মেলাতে চাননি কবি। বরং তিনি সগৌরবে ঘোষণা করেনÑ ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।’ তবে তাঁর এই স্বদেশভাবনা কখনোই উগ্র জাতীয়তাবাদকে অনুমোদনও করেনি, প্রশ্রয়ও দেয়নি। তাঁর কবিতায় স্বদেশের রূপ শান্ত, ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল, মমতায় মাতৃমূর্তি, সাম্যের প্রভাবে উদার। স্বদেশমাতার এই উদার আকাশ এবং নির্মল বাতাস চিরদিন কবির প্রাণে ‘বাজায় বাঁশি’। তাই তো তিনি দ্বিধাহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেনÑ ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ বটের মূলে কিংবা নদীর কূলে কূলে আঁচল বিছিয়ে দেয়ার যে ছবিটি কবি এঁকেছেন, তার শোভা-ছায়া-স্নেহ-মায়া সবকিছু তো মমতাময়ী মাকেই মনে করিয়ে দেয়। কবি দেশের মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে হৃদয়ের প্রণতি জানাতে গিয়ে দেশমাতার আদলের মধ্যেই খুঁজে পান বিশ্বমাতাকে। প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথ যতখানি জাতীয়তাবাদী তারও অধিক আন্তর্জাতিকতাবাদী। নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শে তিনি হয়তো আস্থাশীল ছিলেন না, কিন্তু মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, শান্তি-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র, পারস্পরিক মৈত্রী ও সহাবস্থান, মানবিক মুক্তি ও মঙ্গলবোধ ইত্যাদি বহু কৌণিক পর্যবেক্ষণে তিনি ছিলেন যথার্থই আন্তর্জাতিকতাবাদী। সমকালীন বিশ্বরাজনীতির স্পন্দনে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিমানস এবং কবিমানস হয়েছে স্পন্দিত। বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ছোবল এবং ফ্যাসিবাদের নগ্ন ও বীভৎস চেহারা কবি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন তাঁর শেষ জীবনের একাধিক কাব্যে। তারই একটিতে কবি বলেন :
‘বিশ্বজুড়ে ক্ষুব্ধ ইতিহাসে
অন্ধ বেগে ঝঞ্ঝাবায়ু হুংকারিয়া আসে
ধ্বংস করে সভ্যতার চূড়া।’
(নবজাতক : আহ্বান)
রবীন্দ্রনাথের ফ্যাসিবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকা তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক চিন্তার ফসল। জীবনের শেষবেলা পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। ভূমিহারা, বাস্তুহারা উপেনের হাহাকার যেমন তাঁকে ব্যথিত করেছে, তেমনি সভ্যতাগর্বী মানুষের হাতে সম্ভ্রমহারা আফ্রিকার আর্তচিৎকার তাঁকে সংক্ষুব্ধ করেছে, প্রতিবাদী করেছে। শেষ জীবনের বহু কবিতায় পাওয়া যায় মানবতার অপমানে ক্ষুব্ধ কবির তীব্র প্রতিবাদ এবং তীক্ষ্ণ শ্লেষ ও বিদ্রƒপ। পত্রপুটের সতেরো সংখ্যক কবিতায় (কবিতার নাম : বুদ্ধংশরণং গচ্ছামি) কবির মর্মভেদী বিদ্রপ ও ক্ষোভ চমৎকার বাণীরূপ পেয়েছে। ওই কবিতায় দেখা যাচ্ছে সাম্রাজ্যলোলুপ, সভ্যতাবিধ্বংসী জাপানি সৈনিকেরা চলেছে চীনা জনপদ আক্রমণ এবং দখল করতে। শুধু রাজ্যজয়ই ওদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বর্বর সৈনিকেরা মানবতার লেশমাত্র অবশিষ্ট রাখবে না, যা কিছু সুন্দর শুভ কল্যাণময় সবই তারা নিঃশেষে ধ্বংস করবে বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; তাই তারা সবার আগে চলল দয়াময় বুদ্ধের মন্দিরে তাঁর পবিত্র আশীর্বাদের আশায়। জগতে অহিংসার মহৎ বাণী ছড়িয়ে গেছেন যে মহামানব দয়াময় বুদ্ধ, তাঁরই আশীর্বাদ নিয়ে হিংসায় উন্মত্ত হয়ে তারা ‘বিষ মিশিয়ে দিতে চায় নিঃশ্বাসে’। প্রহসন আর বলে কাকে? তারা ‘ছিঁড়ে ফেলবে ঘরে ঘরে ভালোবাসার বাঁধনসূত্র’ এবং-
‘পিশাচের অট্টহাসি জাগিয়ে তুলবে শিশু আর নারীদেহের ছেঁড়া টুকরোর ছড়াছড়িতে।’
বর্বর এই ফ্যাসিস্ট বাহিনী চাইছে বুদ্ধের আশীর্বাদ! বৈপরীত্য কিংবা পরিহাস আর বলে কাকে! মানবতার এই অপমানে কবির অন্তরে জমেছে বিক্ষোভের বুদ্বুদ। মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও গভীর ভালোবাসা রবীন্দ্রনাথকে করেছে প্রবল সংবেদনশীল এবং মানবতাবাদী। মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তিনি আজীবন জড়িয়ে নিয়েছিলেন মানবাধিকারের প্রশ্নটিকেও। জীবনের শেষ অধ্যায়ে, যখন পৃথিবী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষত পুরোপুরি মুছতে পারেনি অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে, দুনিয়াব্যাপী টালমাটাল সেই সময়ে রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই উৎকণ্ঠায় উৎকর্ণ হয়ে থাকতেন, পৃথিবীর যে-কোনো প্রান্তে মানবতার অপমানে তিনি বেদনার্ত হয়ে উঠতেন, ক্ষুব্ধ হতেন, প্রতিবাদ জানাতেন। জনতার আন্দোলন-সংগ্রাম-বিক্ষোভে কখনো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, আবার কখনো লেখনীর মাধ্যমে আত্মিক সমর্থন-সংহতি ঘোষণা করেছেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকা-ের প্রতিবাদ এবং ১৯১৯ সালে হিজলী ও চট্টগ্রামের কারাগারে রাজবন্দিদের উপরে অমানুষিক নির্যাতন ও হত্যাকা-ের প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় সত্তরোর্ধ্ব বয়সের ভার ও ভ্রƒকুটি উপেক্ষা করে কবি সশরীরে উপস্থিত হন, ইংরেজ শাসকদের প্রতি নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি লিখিত ভাষণ দেন। অবমানিত মনুষ্যত্বই রবীন্দ্রবিবেকে নাড়া জাগিয়েছে সারাজীবন, প্রাণের গভীর থেকে সাড়া দিয়েছেন বিশ্বমানবতার আহ্বানে; সংহতি প্রকাশ করেছেন সব দেশের, সব কালের অধিকারবঞ্চিত মানুষের লড়াই সংগ্রামে। অতিশয় দুঃখের বিষয় হচ্ছেÑ বিশ্বমানবতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ এই রবীন্দ্রনাথকে এখনো প-িতদের অনেকের আলোচনায় উপনিষদের ভাবরসে পুষ্ট ঋষি ‘সন্তের আবরণে’ আড়াল করতেই দেখা যায়। তাঁদের মতে, উপনিষদের ভাবরসে পুষ্ট ঋষি রবীন্দ্রনাথ যেনবা সেই ‘সন্তের আবরণ’ থেকে বেরিয়ে আসতেই পারেন না। অথচ রবীন্দ্রনাথ কখনোই ‘বৈরাগ্য সাধনে’ মুক্তি খোঁজেননি, মুক্তি খুঁজেছেন 'অসংখ্য বন্ধন মাঝে'; দুঃখের কাঁটায় রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে তিনি পেতে চেয়েছেন আনন্দময় মুক্তি। এই কি ঋষি রবীন্দ্রনাথের পরিচয়?
ব্যক্তিগত জীবনে রবীন্দ্রনাথ আচারসর্বস্ব প্রচলিত কোনো ধর্মমতের অন্ধ অনুসারী ছিলেন না। ঋষি পিতার ঔদার্য হয়তো তাঁর মানস গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত তিনি ছিলেন প্রবলভাবে মানবতাবাদী। জাতিধর্মের ভেদরেখার অনেক ঊর্ধ্বে ছিল তাঁর স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি। পূর্ববঙ্গে (বাংলাদেশে) এসে বাংলার লোকায়ত জীবনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, যা তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় যোগ করে নতুন মাত্রা। সেই সঙ্গে এই বাংলাতেই তিনি সন্ধান পান বাউল দর্শনের, যা তাঁর মানবিক মূল্যবোধে এনে দেয় অসামান্য দীপ্তি। উপনিষদের আনন্দবাদী দর্শনও তাঁকে দিয়েছে সর্বজনীন মানবিকতাবোধের অন্তর্দৃষ্টি। এই সব মিলিয়েই কবি রবীন্দ্রনাথ, দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ, বাঙালি রবীন্দ্রনাথ এবং সর্বোপরি মানুষ রবীন্দ্রনাথ। অথচ আজো অনেকে ‘সন্তের আবরণ’ থেকে মুক্ত করতে চান না এই ‘মানুষ রবীন্দ্রনাথ’ বা ‘ব্রাত্যজনের রবীন্দ্রনাথ’কে। সমগ্র রবীন্দ্রনাথকে উপলব্ধি করতে হলে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে আলখাল্লার বাইরের রবীন্দ্রনাথকে জানার জন্য। রবীন্দ্রনাথ নিজেই উপনিষদের মায়াবাদী দর্শনের সোনার খাঁচায় বন্দি থাকতে কিংবা কেবল শান্তিনিকেতনের ‘গুরুদেব’ হয়ে থাকতে চাননি। এসব বৃত্ত ভেঙ্গে তিনি পরিণত বয়সে এসে নিজেকে পঙ্ক্তিহারা ব্রাত্যজন বলে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন :
‘আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন,
সকল মন্দিরের বাহিরে
আমার পূজা আজ সমাপ্ত হল
দেবলোক থেকে মানবলোকে
আকাশের জ্যোতির্ময় পুরুষে
আর মনের মানুষে আমার অন্তরঙ্গ আনন্দে।’
পূর্ববঙ্গের বাউল-সান্নিধ্য এবং নদী সন্নিহিত সাধারণ মানুষের আটপৌরে জীবনের পরিচয় লাভের মধ্য দিয়ে অভিজাত ঠাকুরবাড়ির সন্তান রবীন্দ্রনাথের যেনবা নবজন্ম ঘটে। পূর্ববঙ্গ তথা এই বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস, জল-হাওয়া, বুঝিবা তাঁকে করে তোলে সর্বমানবের কবি, ব্রাত্যজনের কবি এবং এই ভূ-ভাগে দাঁড়িয়ে আমরা দাবি করতেই পারিÑ তিনি আমাদের কবি।
রফিকুর রশীদ
কথাসাহিত্যিক
গাংনী, মেহেরপুর।
এখনো কোনো মন্তব্য অনুমোদিত হয়নি। আলোচনার সূচনা করতে প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!