betarbanglabd@gmail.com +৮৮০২-৪৪৮১৩০৫৩
Logo

বেতার প্রকাশনা

শব্দের সীমা পেরিয়ে—ত্রিমাত্রিক বাংলাদেশ বেতার

সাক্ষাৎকার

কৃষকের অর্থনীতি চাঙ্গা হলেই এ দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে

মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ 7/23/2026 9 বার দেখা হয়েছে 6 min read 0 মন্তব্য 0 প্রতিক্রিয়া পিডিএফ ডাউনলোড করুন
কৃষকের অর্থনীতি চাঙ্গা হলেই এ দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে
নিবন্ধটি শুনুন / অডিও শুনুন (TTS)
1.0x

কৃষকের অর্থনীতি চাঙ্গা হলেই এ দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে

কৃষক কার্ড বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর বিশেষ সাক্ষাৎকার


সজীব দত্ত: মন্ত্রী মহোদয়, আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি বেতার বাংলার পক্ষ থেকে। কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাই আপনার কাছে।

মন্ত্রী: ধন্যবাদ আপনাকে। বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত এবং কৃষি এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বা মেরুদ-। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হবে, এটা অ্যাকচুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সাহেবের একান্ত চিন্তার একটা ফসল। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তো এখানে কৃষক বাঁচার প্রশ্ন যদি আসে, তাহলে আরো কয়েকটি জিনিস স্বভাবতই সামনে এসে যায়।

প্রথমত সমস্যাটা কোথায় কৃষক ফেস করছে? অনেক সময় দেখা যায়Ñ কৃষক নয়, এমন লোক কৃষিপণ্য নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করে। সত্যিকারে যে কৃষক, সে তার প্রাপ্য জিনিসটুকু পায় না। যেমন: সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি এবং ন্যায্যমূল্যে পানি। এই জিনিসগুলো অনেক সময় সত্যিকারের কৃষক পায় না। আবার একই সাথে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্যটাও পায় না।

এই যে গ্যাপটা এক, উৎপাদনকালীন প্রয়োজনীয় দ্রব্য না পাওয়া; দুই, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়াÑ এই দুটি কারণেই কৃষক সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কৃষক মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না, যার কারণেই এই কৃষক কার্ড। এই কৃষক কার্ডের ভেতরে এত বেশি ডাটা এর ভেতরে থাকবে, যারা একেবারে প্রান্তিক কৃষক, একেবারে গরিব কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক এদেরকে বছরে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা আমরা দিয়ে দিচ্ছি, যেটা দিয়ে তার অনেক বড় উপকারে আসবে। আবার বড় কৃষক যারা আছে তারাও এই কার্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু তারা অর্থ পাবে না।


১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কুমিল্লা সদর উপজেলার বিবির বাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন


কিন্তু তাহলে কেন কার্ডের আওতায় আসলো? যেমন আমি আরো ভেঙে যদি বলিÑ এই যে, ধরেন এবার আলুর প্রোডাকশন অনেক বেড়ে গেছে। আপনারা নিউজে শুনছেন কি আলুর দাম কমে গেছে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার অন্য কোনো সময় দেখা যায় আলুর দাম এত বেড়ে গেছে যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এই কৃষক কার্ড এটাকে কন্ট্রোল করবে।

কারণ আমরা যদি, সরকার যদি ক্যালকুলেশন করতে পারে যে আমার কত আলুর প্রয়োজন, আমার এই কৃষক কার্ড অনুযায়ী আমি কিন্তু সব রেকর্ড রাখতে পারব; ওই এলাকার ওই কৃষক কোন ধরনের মাটি, কোন ধরনের ফসল তার এখানে ভালো হয়। আমি সেক্ষেত্রে বলতে পারব উপজেলা ওয়াইজ। হ্যাঁ, এই এলাকায় মেইনলি পটেটো প্রোডাকশন ইজ দ্য বেস্ট জোন। আমার টোটাল চাহিদা কত, সে অনুযায়ী আমি উপজেলা পর্যায়ে বলে দিতে পারি এত উৎপাদন করতে হবে।

তাহলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ইন টাইম একদম ভালো প্রাইসে চলে গেল এবং কনজিউমাররা অ্যারাউন্ড দ্য ইয়ার একটা সঠিক দামে কিনতে পারবে। এই কৃষক কার্ডে প্রদত্ত মূল সেবাসমূহ আমি যদি বলে দিই:

* ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি।

* ন্যায্য মূল্যে সেচসুবিধা প্রাপ্তি (এটা কৃষক উপভোগ করবে)।

* সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি।

এখানে বলে রাখিÑ অনেক সময় দেখা যায়, কৃষিঋণ তুলে নিয়ে গেছে অথচ সে কৃষক না। এর ফলে কৃষকই শুধু যার কার্ড আছে (ওখানে জমির পরিমাণ পর্যন্ত লেখা থাকবে) সেই কৃষিঋণ উত্তোলন করতে পারবে।

* স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে।

এখানে ধরেন, গত সরকারের আমলে দেখছেন যে কয়েক হাজার কোটি টাকার সেচযন্ত্র বা কৃষিযন্ত্র দেওয়া হইছে। এক, কিছু দিয়েছে কিছু দেয় নাই; দুই, সত্যিকারে যে কৃষক সে পায় নাই, যে কৃষক নয় এমন লোক নিয়ে গেছে। সো এখন যেটা হবে, যার কার্ড আছে শুধু সে-ই এসব সুবিধা এনজয় করতে পারবে। ওখানে তো বড়, মাঝারি, ছোট উল্লেখ করা থাকছে। এই হলো কৃষক কার্ডের সুবিধা।

* সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি।

* মোবাইলে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য।

এই কৃষি কার্ড যার থাকবে, তার মোবাইল নম্বর আমাদের কাছে থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আবহাওয়া নিউজ, অন্যান্য নিউজ সরাসরি কৃষকের কাছে চলে যাবে।

সজীব দত্ত: এখন স্যার মোবাইল ফোনেও রেডিও শোনা যাচ্ছে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে, অ্যাপের মাধ্যমে রেডিও কিন্তু এখন বিশ্বব্যাপী আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।

মন্ত্রী: রাইট। তার পরও যেটা আছে কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণÑ আমরা বলে দিতে পারব আপনার এলাকায় এই আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। মানে কৃষককে প্রোডাক্ট ডেভেলপ করার প্রশ্নে যেন যত ধরনের সাপোর্টের প্রয়োজন, এই কৃষক কার্ড সহায়তা করবে। কারণ এটা একটা রেকর্ড আমাদের কাছে থাকবে।

* ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ।

* কৃষি বীমা সুবিধা।

* ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয় ও সুবিধাপ্রাপ্তি।

কাজেই কৃষক তার পণ্যের উৎপাদনের রেটের যে লাভসহ যে দাম সরকার ফিক্সড করবে, ওই দামেই কৃষক বিক্রি করে লাভ করতে পারবে।

সজীব দত্ত: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ বাংলাদেশ বেতারের পক্ষ থেকে। এই যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, এর মাধ্যমে সারা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা যে লাভবান হবেন, আমাদের বাংলাদেশ বেতারের বেতার বাংলার পাঠকদের উদ্দেশে শেষের কথায় কী আহ্বান রাখবেন?

মন্ত্রী: বাংলাদেশের এই সরকার বিশ্বাস করে এবং এটাই সত্য, ৭০ শতাংশ লোক কৃষিজীবী। কৃষকের অর্থনীতি চাঙ্গা হলেই এ দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। আসেন, সবাই কৃষক কার্ডের যেসমস্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে ওই সুবিধাগুলোকে সঠিকভাবে উপভোগ করুন। তাহলেই কৃষির উন্নয়ন হবে, আপনার উন্নয়ন হবে, দেশের উন্নয়ন হবে। ধন্যবাদ।

সজীব দত্ত: প্রিয় পাঠক, কথা বলছিলাম জনাব মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, মন্ত্রী, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আপনাদের সবাইকে আরো একবার শুভেচ্ছা।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে: সজীব দত্ত, উপস্থাপক, বাংলাদেশ বেতার।


আপনার অনুভূতি জানান
মোট প্রতিক্রিয়া: 0
নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আলোচনা ও মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য অনুমোদিত হয়নি। আলোচনার সূচনা করতে প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

মন্তব্য করুন